আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে, ২০১৭ সালে সারা দেশে ৮১৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষণের পর খুন হয়েছেন ৪৭ জন। আর ১১ জন নারী ধর্ষিত হবার পর আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা বাড়বে না তার গ্যারান্টি নাই এবং এটি মহামারির মত ছড়িয়ে পড়ছে দিনকে দিন। সম্প্রতি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ দেশব্যাপি আলোড়ন তৈরি করেছে। মনে রাখা দরকার, এই সংখ্যা কেবলই পত্র-পত্রিকায় আসা খবরের ভিত্তিতে তৈরি, ‘আন-রিপোর্টেড রেইপ’ বা অপ্রকাশিত ধর্ষণ আমলে নিলে এই সংখ্যা বেশ কয়েকগুণের চেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা। ইন্দোনেশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদন মারফত জানা যায়, প্রায় নব্বই শতাংশ ধর্ষণ প্রকাশ হয় না। ভারতের ধর্ষণের চিত্র নিয়ে এশিয়া টাইমসে ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদনেও বলা হয় ‘গবেষণায়’ দেখা যায় ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ৯০ শতাংশ অপ্রকাশিত থাকে। বাংলাদেশ এ হিসেব কম হবে না। এবং এ হিসেবে ধরা যায়, ৮১৮ জন নারী ধর্ষিত হয়েছেন বলে প্রকাশ হলেও, ধর্ষণের আসল সংখ্যা নয় দশ হাজারের কম হবে না। এ সংখ্যা কেবল পাশবিক ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পশ্চিমা বিশ্বের মতো মুখে ঝাল খেয়ে যদি বিনা অনুমতিতে সেক্সকেও ধর্ষণের আওতায় আনা হয়, তবে ধর্ষণ সবুজ বাংলায় কী পরিমাণ ছড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
নিবন্ধের পরবর্তী পর্যায়গুলো পাঠের জন্য এ সংখ্যা এবং ধর্ষণ প্রকৃতি জেনে রাখা জরুরি। এই নিবন্ধে ধর্ষণ এবং ক্ষমতার মধ্যকার ধনাত্মক সম্পর্কের জায়গায় আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে কোন নতুন বয়ান হাজির করার কোশেশ করা হয়নি। কেবল, পূর্ববর্তী বিজ্ঞজনদের জাহিরকৃত জ্ঞানের আলোকে বাংলার ধর্ষণ ও ক্ষমতার মধ্যকার সম্পর্কের স্বরূপ ব্যাখ্যা করার ক্ষুদ্র প্রয়াস নেয়া হয়েছে।
প্রথম প্রশ্ন হলো, ধর্ষণের সাথে যৌনতার সম্পর্ক আছে কি? থাকলে কতটুকু? বিজ্ঞজনেরা এ বিষয়ে একমত যে ধর্ষণের সাথে যৌনতার সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই। যৌনতার আকাঙ্খা থেকে ধর্ষক তৈরি হয় না। যতটুকু সম্পর্ক আছে তা দূরবর্তী (remote)। যেমন বাংলাদেশ প্রায় প্রতিটি জেলায় যৌনপল্লী আছে যেখানে পয়সার বিনিময়ে ধর্ষকাম মেটানো খুব সম্ভব। এছাড়া নারী-পুরুষের সংখ্যার অনুপাত যথেষ্ট ইতিবাচক যার ফলে সেক্স ডেপ্রাইভনেস বা যৌন-বঞ্চিত এর হতাশা থেকে ধর্ষণ হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাহলে ধর্ষণের কারণ কী?
এখন দ্বিতীয় বিষয় হল, ধর্ষণ কি কোন বিশেষ ধর্ম, বর্ণ বা জাতি, সংস্কৃতি অথবা বিশ্বাস দ্বারা উৎসাহিত কিনা? এক্ষেত্রে যদিও আমাদের এক শ্রেণীর ‘সেক্যুলার’ এই প্রপাগান্ডা চালাতে সর্বদা তৎপর যে একটি বিশেষ ধর্মের বিশ্বাস কিংবা আচার ধর্ষণকে উৎসাহিত করে। কিন্তু বিজ্ঞজনেরা এই ধারণাকেও বাতিল করে দেন। এবং হাজির করেন এই বয়ান যে, প্রায় সমস্ত জাতি, ধর্ম এবং সংস্কৃতিতে ধর্ষণ একটি ব্যাধি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটও এমনই।
বস্তুতপক্ষে ধর্ষণ সবসময় ক্ষমতার হাত ধরে চলে। এই ক্ষমতা নিতান্তই পুরুষশাসিত সমাজের পুরুষতান্ত্রিকতার ক্ষমতা না, কেননা ক্ষমতার কোন লিঙ্গ থাকেনা। ফলে ক্ষমতায় যে আসীন হয়, সে নিজেই ক্ষমতার খাপে আটকে যায়, সে পুরুষ হোক বা নারী। আসলে, নারীতে বা তার শরীরের বা ক্লিভেজের বা পোশাকের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কোন ধর্ষকামী ধর্ষণে প্রবৃত্ত হয় না। একটি বিকৃত বাসনার বর্শবর্তী হয় ধর্ষক এবং এ বাসনা যখন সমাজের ঐতিহ্য এবং ক্ষমতার হাত ধরে আসে এবং যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা পায়, তখন সেই ব্যক্তি বাসনার আক্রোশে ধর্ষণে প্রবৃত্ত হয়। এই ক্ষমতার নিকৃষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটে ধর্ষণের সাথে যুক্ত সহিংসতার মধ্য দিয়ে। বস্তুতঃ এক্ষেত্রে ক্ষমতার সর্বোচ্চ বিকৃত প্রকাশ হিসেবে আসে ধর্ষণ। ফলে পুরুষতন্ত্র বলতে এতদিন যে রকম ব্যক্তি পুরুষকে বোঝানো হত এখন আর তেমন ভাবে দেখা হয় না। এই বিষয়টি জেন্ডার বিদ্যায় আলোচনা হয়, ‘ম্যাসকুলিনিটি’ বা ব্যাটাগিরি হিসেবে। এটা নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই প্রকাশিত হতে পারে। নারীর ক্ষেত্রে প্রকাশের ধরণটা আলাদা হতে পারে। কখনও কখনও এটাকে ‘ফেমিনিন ম্যাসকুলিনিটি’ বলা হয়। এক্ষেত্রে বল বা ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নারী তার নারীত্বকে ব্যবহার করে। আর পুরুষ যখন তার পুরষত্বকে ব্যবহার করে লিঙ্গ-আধিপত্য তৈরি করে তখন ম্যাসকুলিনিটি আকারে তা দেখা হয়। মোট কথা একটি সমাজে ক্ষমতা চর্চার ধরণের সাথে সেই দেশের যৌন সহিংসতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাটা ব্যক্তি নারীর হাতে না পুরুষের তা খুবই অপ্রাসঙ্গিক। ধর্ষণকে বুঝতে হবে ক্ষমতা চর্চার ধরণের নিরিখে।
২০১৩ সালের গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত জিল ফিলপোভিক এর নিবন্ধে এ বিষয়টি বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এভাবে, “…rapists are particularly abetted by cultures in which women are second-class citizens, where women’s bodies are intensely politicized, where social hierarchies outlandishly privilege certain members and where there’s a presumption of male authority and righteousness.”
অর্থাৎ, ধর্ষকামী তখনই ধর্ষণে প্রবৃত্ত হয় যখন সে মনে করে, লৈঙ্গিকভাবে সে ক্ষমতাশীল এবং তার এ ক্ষমতা সমাজে স্বীকৃত। আর নারীর অবস্থান দ্বিতীয় সারির নাগরিকের চেয়ে বেশি কিছু না এবং সামাজিক অবস্থানে নারী দুর্বল এবং নিষ্পেষিত, এবং এ নিষ্পেষণ বেশ গ্রহণযোগ্য। সমাজের গোষ্ঠীগত এ ক্ষমতা সে ব্যবহার করে এবং ক্ষমতাবান ‘পুরুষতান্ত্রিক’ সমাজ তাকে সুযোগ এবং সহযোগ করতে পিছপা হয় না। ঠিক একারণেই একেকটি ধর্ষণের পরে গোষ্ঠীগতভাবে সেটাকে ধামাচাপা দেয়া, আপোসে বাধ্য করা এবং শেষ অস্ত্র হিসেবে ধর্ষিতাকেই উল্টা দোষী সাজানোর প্রবণতা দেখা যায়। বাংলাদেশের বনানী ধর্ষণ কিংবা অন্যান্য ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিশাল শিক্ষিত গোষ্ঠীর ভিক্টিমকে ব্লেইম করা, তার চলাফেরা বা পোষাক-আশাককে বা চরিত্রকে দায়ী করা আসলে কোন ধর্মীয় বা কালচারাল অবস্থান নয়, এটি বিরাজমান ক্ষমতার অথরিটিটিভ বা কর্তৃত্ববাদী অবস্থান।
‘পুরুষতান্ত্রিক’ এ ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে তার প্রেক্ষিতে আসল নতুন বয়ান নারীবাদ। কিন্তু হতাশার কথা হলো, বাংলাদেশে নারীবাদের ধারক বাহকেরা নারীবাদিতা বলতে কেবল নারীর আরেক ক্ষমতাশীল পুরুষ হয়ে ওঠার চেষ্টাকে বোঝে, পুরুষজাতিকে ঘৃণা করা বোঝে আর উদামভাবে সমগ্র পুরুষজাতকে গালি করতে উদ্যত হয়। ফলে ক্ষমতার জায়গা থেকে নারীবাদ শুরু হওয়া যেমন প্রয়োজন তেমনটি বাংলাদেশে হয়নি। বরঞ্চ নারীবাদ একধরণের ইসলামোফোবিক জায়গা থেকে কেবল নারীর শরীরের স্বাধীনতা নিয়ে উচ্চকিত থেকেছে, সমাজের ক্ষমতাচক্রে নারীর অবস্থান কিংবা নিস্পেষণের জায়গা থেকে বিষয়টাকে দেখা হয়নি। এ কারণে বোরখা বা হিজাব হয়ে উঠেছে নারীবাদের প্রধান শত্রু। অথচ বোরখা বা হিজাব পরলেই যেমন ধর্ষণ থেকে বাঁচা যায় না তেমনি বোরখা বা হিজাব ত্যাগ করলেই নারীবাদ কায়েম হয়ে যায় না। বাংলাদেশের প্রচলিত এবং জনপ্রিয় নারীবাদীরা মূল বিষয়টি থেকেই যোজন যোজন দূরে থেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। নারীবাদ কী এবং কিভাবে বিকশিত হওয়া দরকার, তা নিয়ে পৃথিবীব্যাপি বিতর্ক জারি আছে। কিন্তু বাংলার নারীবাদীরা সে বিতর্কেও কখনো অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তাই বাংলাদেশে নারীবাদ শেষ পর্যন্ত, পুরুষের ভাষায়ই কথা বলেছে, স্রেফ অন্য ভঙ্গিতে। ভুলে গেলে চলবে না, নারীবাদীদের এই ব্যর্থতার ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ।
গত কয়েক দশকে শিক্ষার হার বেড়েছে কিন্তু পাল্টায়নি নারীর প্রতি মনোভাব। বাংলাদেশ এই হার জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। এর একটি মূল কারণ মিডিয়া আর সিনেমায় নারীর পণ্যায়ন। নারী নিজেই নিজের শরীর বিক্রি করে স্টার হয়েছে। টিভিতে, সিনেমায়, বিজ্ঞাপনে নারীর শরীরকে ব্যবহার করে পুঁজির পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে। ধীরে ধীরে নারী আরো ক্ষমতাহীন হয়েছে। নারী নিজেই ‘নিজেকে সাজানো’র পরিবর্তে নিজের ‘শরীর’ সাজাতে ব্যস্ত রয়েছে, কোনপ্রকার দ্বিধা ছাড়াই। ফলে খুব সহজেই নারীকে শেষ পর্যন্ত যৌনযন্ত্র হিসেবে সাব্যস্ত আর প্রতিষ্ঠিত করা গেছে। নারীবাদীরা মাঝে মাঝে কাইকুই করলেও, নারীর ক্ষমতায়নের বদলে নারীর শরীরের এই নোংরা ব্র্যান্ডিংয়ের বিপক্ষে কার্যকর কোন আন্দোলন তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে ব্যাহত হয়েছে নারী-পুরষের শ্রদ্ধানির্ভর সহাবস্থান।
নব্বই দশকে আমরা জানতাম, নারীকে যে অসম্মান করে সে কাপুরুষ। তারপর মিডিয়ার প্রবল উত্থানে, নতুন প্রজন্ম পেলো শিলাকি জওয়ানির সেই কাম-তাড়নাপূর্ণ আহবান। ফলে, সময়ের সাথে সাথে একটা প্রজন্ম নারীকে কেবল ভোগপণ্য হিসেবে দেখতে শিখলো। একাডেমিক বা পারিবারিক শিক্ষাকে সেই জোয়ার ভাসিয়ে নিয়ে গেল। শিক্ষার হার বাড়লো বটে, নারীর অবস্থান আরো ক্ষয়ে গেল। পুরুষ ক্ষমতাকেন্দ্রে থাকায় লৈঙ্গিকভাবে আরো শক্তিশালী হলো। ধর্ষক আর ধর্ষণের পক্ষে তার অজুহাত হিসেবে হাজির করলো সব কিছু। এখানেই নারীবাদীদের বিষম ব্যর্থতা।
এবার ক্ষমতার অন্য পিঠের দিকে আলোকপাত করা যাক। ধর্ষণ আইনি দৃষ্টিতে শেষ পর্যন্ত একটি ফৌজদারি অপরাধ। আর এই অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আরেক ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠানের। সে প্রতিষ্ঠানের নাম রাষ্ট্র। ক্ষমতাবান এই পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর শেষ আশ্রয় রাষ্ট্র। রাষ্ট্রই যখন হয়ে যায় বিকারগ্রস্থ এবং ক্ষমতার প্রভূত অপব্যবহারকারী, তখন সব আশা গুড়েবালি হয়ে কাঁদে। বিচারহীনতা যখন হয়ে যায় গ্রহণযোগ্য সংস্কৃতি, তখন ধর্ষকের কাম হয়ে ওঠে মরিয়া। সবচেয়ে বড় কথা রাষ্ট্র যখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেয় সকল অন্যায় থেকে, তখন প্রথমেই আঘাতটা আসে নারীদের উপর। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে এটাই ঘটেছে। ক্ষমতা পালাবদল ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সব সময়ই থেকেছে আইনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর ফলে আমরা কখনো দেখেছি সংখ্যালঘু পরিবারের অসহায় আর্তি। সময়ের পালাবদলে দেখেছি বিউটির ধর্ষিত নিথর দেহ। ইনসাফ কেবল আঁধারে কেঁদেছে। সমাজে পুরুষের পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতাকে বশে রাখার কথা আইনের। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যখন একাকার হয়ে যায় নারীর বিরুদ্ধে, তখন ধর্ষণ বাড়তে থাকে জ্যামিতিক হারে। কেননা, ধর্ষণ শেষ বিচারে ক্ষমতারই চরম বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশ এটাই ঘটেছে, ঘটছে।
ক্ষমতা ও শরীরের সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দরকারি আলোচনা গবেষণা হচ্ছে সারা দুনিয়াতেই। দেখা গেছে, সমাজের ক্ষমতাবান নারী যতই প্রচলিত অর্থ বেআব্রু পোষাক পরুক না কেন, তার ধর্ষিতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তার পোষাক নয় বরং সামাজিক শ্রেণী অবস্থানই তাকে বিপদে ফেলতে পারে। তবে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে পরে গেলে তার নির্যাতিত হওয়ার ভিতি থেকেই যায়। কোন ক্ষমতাধর নারী যদি অপরিচিত বা জনশূণ্য পরিবেশে বাজে বা লম্পটের খপ্পরে পরে তখন তার সব পরিচয় ছাপিয়ে তাকে নারী হওয়ার জন্যই অত্যাচারের শিকার হতে হয়। তবে সাধারণত সামাজিক পরিসরে নারীর অত্যাচারের ধরণে ক্ষমতা ও শ্রেণী সম্পর্ক বিবেচনায় তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ধর্ষণবিরোধিতা করতে হলে সবার আগে চ্যালেঞ্জ করতে হবে ক্ষমতাকে। একই সাথে পুরুষশাসিত ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দুটোকেই। এই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নারীকে পণ্য হিসেবে জাহির করার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার মাধ্যমে। আর ধর্ষককে রাষ্ট্রের এবং রাজনীতির কোন অনুকম্পা দেখানো চলবে না। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য করে জানান দিতে হবে, কোন ক্ষমতাই ধর্ষকের সাথে নেই। সর্বোপরি, বুঝতে হবে, ধর্ষণ শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার উদযাপন। এ কাজ না করতে পারলে, ভবিষ্যত বাংলাদেশ হবে ধর্ষকের দেশ। আমাদের মেয়েরা, আমাদের বোনের প্রতিদিন নাজেহাল হবে, সম্মান হারাবে আর আমরা কেবল ব্যর্থ আক্রোশে জ্বলে পুড়ে মরব। সে বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা আমাদের নারীদের সম্মান চাই, নিরাপত্তা চাই। ধর্ষকের বিচার চাই।
সূত্র: https://thejoban.com/article/2018/03/31/%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A3-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BE/
Post a Comment