0
শুধু মানসিকতা আর মূল্যবোধের পরিবর্তন নয় ধর্ষণ এবং এসিড সন্ত্রাসীদের শাস্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা খুবই জরুরি আর তা হলো মৃত্যুদণ্ড।
তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
পাঁচ বছরের মেয়ে শিশুটি কেন ধর্ষণ হয় জানেন? রাস্তায় যখন একটি যুবতী মেয়ে টাইটফিট জামা পরে ঘুরে বেড়ায় তখন যুবক ছেলেটির রাতে ঘুম হয় না। তার মাথা ঠিক থাকে না। আর সে কারণে যখন সে পাঁচ বছরের শিশুটিকে কাছে পায় তখনই তাকে রেপ করে। বিষয়টি এবার বুঝতে পেরেছেন। এর জন্য দায়ী ঐ বেপর্দা নারী।’ – ওয়াজ মাহফিলে জনৈক এক হুজুরের বয়ান থেকে নেওয়া। 
দেশে এই টাইপের হুজুররা যতদিন পোশাকের কারণে ধর্ষণকে জায়েজ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেবে ততদিন এই দেশে ধর্ষণ নিয়ে কথা বলতে গেলে কেউ কেউ আবার আমাকে নাস্তিক বানিয়ে দেবে।
পোশাকের কারণে যদি ধর্ষণ হয় তাহলে সি বিচগুলোতে প্রতিদিন অসংখ্য ধর্ষণ হতো। আর বাংলাদেশে মেয়েদের পোশাকের কথা যদি বলেন তাহলে সেই সব প্রগতিশীলদের বলব দেশের মেয়েদের কাপড়ের শো রুমে গিয়ে একটা ড্রেস কিনে দেখানতো যেখানে সত্যিই কোন অশালীন পোশাক বিক্রি হয় কী না।
অথচ বিষয়টিকে একদল ঘুরে ফিরে পোশাককে দায়ী করছে। যদি পোশাককেই দায়ী করেন তাহলে আদিমকালে যখন মানুষ উলঙ্গ হয়ে গুহায় বাস করত তখন তো অহরহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটত। অথচ আমরা এখন সভ্য যুগে বসবাস করেও যখন কেউ শালীন পোশাকে বাইরে বের হয়ে ধর্ষিত হচ্ছে তখনো একটা গ্রুপ ধর্ষণের জন্য পোশাককেই দায়ী করছে। কী দারুন আমাদের যুক্তি আর মানসিকতা !
এরা একটি বারের জন্য ধর্ষকের মানসিকতাকে দায়ী করছে না। একটি বারের জন্য ধর্ষকের বিপক্ষে একটি কথাও বলছে না। এদের কথা শুনে মনে হয়, এরা প্রত্যেকেই এক একজন পরোক্ষ ধর্ষক। 
দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট কি এতোটা খারাপ হয়ে গেছে যে রাস্তাঘাটে মেয়েদের দিকে তাকানো যাচ্ছে না! তাহলে পোশাকের বিতর্ক আসছে কেন?
ধর্ষণের জন্য মানসিকতা আর মূল্যবোধকে দায়ী করলে সে হয় নাস্তিক আর পোশাকের কারণে ধর্ষণকে পরোক্ষভাবে সাফাই গেয়ে প্রকাশ্যে বড় বড় লেকচার আর হুমকি দিয়ে আপনি যে অনেক বড় আস্তিক সেটা প্রমাণ করতে চাইছেন!
শুধু মানসিকতা আর মূল্যবোধের পরিবর্তন নয় ধর্ষণ এবং এসিড সন্ত্রাসীদের শাস্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা খুবই জরুরি আর তা হলো মৃত্যুদণ্ড।

একজন ধর্ষক এবং এসিড সন্ত্রাসীদের মতো জঘন্য অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে খাইয়ে পড়িয়ে পৃথিবীর আলো বাতাসের মাঝে বাঁচিয়ে রাখার কোনই মানে হয় না।

Post a Comment

 
Top